ইফতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, এবং ইফতারের সময় দোয়া করলে তা আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন। নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের ইফতারের দোয়া শিখিয়েছেন, যা সহিহ হাদিসে পাওয়া যায়।
✅ ইফতার করার পূর্বে পড়ার দোয়া (সহিহ হাদিস অনুযায়ী)
🔹 হাদিস সূত্র:
এই দোয়াটি হজরত মুয়াজ ইবনু জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, এবং এটি আবু দাউদ (হাদিস নং: ২৩৫৮) ও তিরমিজি (হাদিস নং: ৮০৬)-এ পাওয়া যায়।
🔹 আরবি:
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
🔹 বাংলা উচ্চারণ:
“আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া বিকা আমান্তু, ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কাল্তু, ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।”
🔹 বাংলা অর্থ:
“হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি, তোমার ওপর ঈমান এনেছি, তোমার ওপর ভরসা করেছি এবং তোমার দেওয়া রিজিক দ্বারাই ইফতার করছি।”
✅ এই হাদিসটি তিরমিজি ও আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে এবং অনেক মুহাদ্দিস একে হাসান (ভালো) হাদিস হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
✅ ইফতার করার পর পড়ার দোয়া (সহিহ হাদিস অনুযায়ী)
🔹 হাদিস সূত্র:
এই দোয়াটি আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এবং এটি আবু দাউদ (হাদিস নং: ২৩৫৭), ইবনে মাজাহ (হাদিস নং: ১৭৫৩) ও দারাকুতনি-তে পাওয়া যায়।
🔹 আরবি:
ذَهَبَ الظَّمَأُ، وَابْتَلَّتِ العُرُوقُ، وَثَبَتَ الأَجْرُ إِن شَاءَ اللَّهُ
🔹 বাংলা উচ্চারণ:
“যাহাবাজ জামা’উ, ওয়াবতাল্লাতিল উরূকু, ওয়াসাবাতাল আজরু ইন শা-আল্লাহ।”
🔹 বাংলা অর্থ:
“পিপাসা দূর হলো, শিরাগুলো সতেজ হলো, আর আল্লাহ চাইলে সওয়াব প্রতিষ্ঠিত হলো।”
✅ এই হাদিসটি আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ-তে বর্ণিত হয়েছে এবং মুহাদ্দিস আলবানী এটিকে সহিহ বলেছেন।
📌 গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
🔹 ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয়, তাই এ সময় আল্লাহর কাছে ইবাদত ও মাগফিরাত চাওয়া উচিত।
🔹 নবী (সা.) সাধারণত খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার করতেন, যা সুন্নাত।
🔹 দোয়া করার পরই ইফতার গ্রহণ করা উত্তম।
আল্লাহ আমাদের রোজা ও ইবাদত কবুল করুন! আমিন! 🤲
Comments (0)