ফিফ ছিল মধ্যযুগীয় ইউরোপের একটি সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে একজন প্রভু কর্তৃক একজন ভাসালকে দেওয়া জমি বা অন্যান্য সম্পত্তি। ভাসাল তার প্রভুর প্রতি আনুগত্যের বিনিময়ে ফিফটি ধরে রাখত। ফিফগুলি সাধারণত জমি, জমি থেকে আয় বা রাজস্ব-উৎপাদনকারী রিয়েল এস্টেট যেমন একটি ওয়াটারমিল অন্তর্ভুক্ত করত।

ফিফের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য:

  • ফিফগুলি সাধারণত শর্তসাপেক্ষ ছিল, অর্থাৎ ভাসাল যদি তার প্রভুর প্রতি তার দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয় তবে ফিফটি বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে।
  • ফিফগুলি প্রায়শই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ছিল, তবে প্রভু সাধারণত উত্তরাধিকারীর অনুমোদন করার অধিকার রাখত।
  • ফিফগুলির আকার ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, ছোট খামার থেকে বড় এস্টেট পর্যন্ত।

ফিফ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য:

ফিফ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ছিল একটি সামরিক বাহিনী তৈরি করা যা প্রভুরা তাদের প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ব্যবহার করতে পারে। ভাসালরা তাদের প্রভুরা থেকে ফিফ পেয়ে তাদের নিজস্ব সৈন্যদের বাহিনী তৈরি করতে সক্ষম ছিল। ফিফ ব্যবস্থা প্রভুদের তাদের ভাসালদের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেও সাহায্য করেছিল। ভাসালরা তাদের প্রভুর প্রতি আনুগত্যের জন্য তাদের ফিফের উপর নির্ভরশীল ছিল।

ফিফ ব্যবস্থার প্রভাব:

ফিফ ব্যবস্থার মধ্যযুগীয় ইউরোপের উপর গভীর প্রভাব ছিল। এটি একটি সামাজিক শ্রেণীবিন্যাস তৈরি করেছিল যা প্রভু এবং ভাসালদের মধ্যে বিভক্ত ছিল। ফিফ ব্যবস্থা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন এবং সামরিক শক্তির উত্থানেও অবদান রেখেছিল।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে:

বাংলাদেশে ফিফ ব্যবস্থা কখনই প্রচলিত ছিল না। তবে, মুঘল আমলে জমিদারি ব্যবস্থা কিছুটা ফিফ ব্যবস্থার অনুরূপ ছিল। জমিদাররা সরকারের কাছ থেকে জমি পেয়েছিল এবং তাদের নিজস্ব কর সংগ্রহের অধিকার ছিল। জমিদাররা তাদের করের বিনিময়ে সরকারকে কর প্রদান করেছিল।