বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষের দাঁতে cavity রয়েছে, যার কারণে মানুষ দাঁতের যন্ত্রণায় ভোগে | এর জন্যে আমাদের সর্ব প্রথম ভালো মনের ডেন্টিস্টকে এর পরামর্শ নেয়া এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া !

অনেকেই আমরা বিভিন্ন কারণে সঠিক বা দ্রুত সময়ে ডেন্টিস্ট কাছে যেতে পরি না, এই জন্যে নিম্নে দাঁতের ব্যাথার ট্যাবলেট এর নাম ও ব্যথা কমানোর উপায় দেওয়া হলো :

দাঁত ব্যথার ওষুধ গ্রহণের পূর্বে জেনে নিতে হবে কোন কারনে দাঁত ব্যথা হচ্ছে। নির্দিষ্ট কারণ জেনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মেডিসিন গ্রহণ করতে হবে।

maneki.info.bd

দাঁতের ব্যাথার ট্যাবলেট

বাজারে অনেক ধরনের দাঁত ব্যথার ওষুধ রয়েছে। তবে দাঁতের হালকা ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল খেলে অনেক ভালো কাজ করে। অতিরিক্ত ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত ডাক্তারের চিকিৎসা নিতে হবে। নিচে কিছু দাঁতে ব্যথার ট্যাবলেট এর নাম উল্লেখ করা হলো:

  • Etocox/Etorix/Tory: তীব্র দাঁতে ব্যাথার জন্য সাধারণত Etoricoxib 60 mg / Etoricoxib 90mg / Etoricoxib 120mg / ওদাঁতে ব্যথার জন্য খুবই কার্যকর। দাঁতের ব্যথার তীব্রতার উপর ভিত্তি করে মাত্রা বাড়ানো যেতে পারে।
  • Fenamic 250: অপ্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী রোগীদের জন্য দিনে দুই থেকে তিনবার পরপর তিন দিন, ব্যথা থেকে গেলে পাঁচ দিন খেতে হবে।
  • Fenamic 500: এটা দাঁত ব্যথা দূর করার জন্য অত্যন্ত ভালো একটি ট্যাবলেট। প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ ১৮ বছর হলে দিনে দুই থেকে তিনবার একটি করে ট্যাবলেট খেতে হবে। ট্যাবলেট টি ফর ফর তিনদিন খেতে হবে।
  • Napa One: এই ট্যাবলেটটি দ্রুত ব্যথা নিরাময় করে। ১৮ বছরের নিচে হলে ট্যাবলেট টা অর্ধেক করে দুই থেকে তিন বার যেতে হবে। আর যদি ১৮ বছরের উপরে হয় তাহলে একটি করে দিন দুই থেকে তিনটি ট্যাবলেট খেতে হবে।

দাঁতের ব্যথা কমানোর দোয়া

আপনার যে পাশে দাঁতের ব্যথার সেখানে হাত রেখে এই আয়াতটি তিনবার পাঠ করুন এবং পানিতে ফু দিয়ে পানি পান করুন।

قُلْ هُوَ الَّذِي أَنشَأَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ

উচ্চারণ : কুল হুয়াল্লাজি আংশাআকুম ওয়া ঝাআলালাকুমুস সাম্‌আ ওয়াল আব্‌ছারা ওয়াল আফয়িদাতা ক্বালিলাম্মা তাশকুরুন।’

অর্থঃ – বলুন, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং দিয়েছেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। [ সুরা মুলক ৬৭:২৩ ]

দাঁতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

দাঁতের ব্যাথা কমানোর জন্য কিছু ঘরোয়া উপায়ও রয়েছে। এই উপায়গুলির মধ্যে রয়েছে:

  • রসুনের ব্যবহার: দাঁতের ব্যথা কমানোর জন্যে খুবই কার্যকরী হচ্ছে রসুন ! আপনি শুধু রসুনের একটি কোয়া নিয়ে থেতলে আলতো করে ব্যথা ওলা দাঁতে নিয়ে থাকুন | কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যথা কমবে |
  • বরফ লাগানো: বরফ লাগানো প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। বরফের টুকরো একটি কাপড়ে মুড়িয়ে দাঁতের ব্যথার স্থানে লাগান।
  • লবণ ও পানি দিয়ে কুলি করা: লবণ ও পানি দিয়ে কুলি করা দাঁতের ব্যাথার সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এক কাপ উষ্ণ পানিতে এক চা চামচ লবণ মিশিয়ে কুলি করুন।
  • অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন খাওয়া: অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন দাঁতের ব্যথার ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে, এই ওষুধগুলি খাওয়ার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।

দাঁত ব্যথা হওয়ার কারণসমূহ

দাঁত ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল ক্যারিজ বা দন্তক্ষয়। ক্যারিজ হল দাঁতের এনামেল এবং ডেন্টিন ক্ষয় হয়ে যাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। এটি দাঁতের ক্ষয়ের ফলে হয়, যা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা তৈরি হয়। ক্যারিজ হলে দাঁতের উপর একটি ছোট গর্ত তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। গর্ত বড় হলে দাঁতের ভেতরের নরম অংশ, দন্তমজ্জা, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। দন্তমজ্জা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দাঁত ব্যথা হয়।

দাঁত ব্যথার অন্যান্য কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • আঘাত বা ধাক্কা: দাঁত বা মাড়িতে আঘাত বা ধাক্কা লাগলে দাঁত ব্যথা হতে পারে।
  • মাড়ির রোগ: মাড়ির রোগ, যেমন জিঞ্জিভাইটিস এবং প্যারোডোনটাইটিস, দাঁত ব্যথার কারণ হতে পারে।
  • রুট ক্যানেল: দাঁতের রুট ক্যানেল চিকিৎসার পরেও দাঁত ব্যথা হতে পারে।
  • আক্কেলদাঁত ওঠার সময়: আক্কেলদাঁত ওঠার সময় দাঁত ব্যথা হতে পারে।
  • অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা: কিছু অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা, যেমন ঠান্ডা লাগা, কান ব্যথা, এবং মাথাব্যথা, দাঁত ব্যথার কারণ হতে পারে।

দাঁত ব্যথার লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • দাঁতে ব্যথা
  • দাঁত শিরশির করা
  • দাঁত স্পর্শ করলে ব্যথা
  • ঠান্ডা বা গরম খাবার বা পানীয় খেলে ব্যথা
  • দাঁত চেপে ধরলে ব্যথা

দাঁত ব্যথা হলে একজন দাঁতের ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। ডাক্তার দাঁতের অবস্থা পরীক্ষা করে ব্যথার কারণ নির্ণয় করবেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেবেন।

দাঁত ব্যথা প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলি লক্ষ্য রাখা উচিত:

  • নিয়মিত দাঁত ব্রাশ এবং ফ্লস করা
  • সুগারযুক্ত খাবার এবং পানীয় পরিহার করা
  • নিয়মিত দাঁতের ডাক্তারের কাছে চেকআপ করা

Categorized in: