পূর্ণতাবাদ হলো একটি চিন্তাভাবনা ও আচরণগত ধরণ যা নিখুঁততা ও ত্রুটিহীনতার প্রতি অত্যধিক মনোযোগ দ্বারা চিহ্নিত। পূর্ণতাবাদীরা প্রায়শই নিজেদের এবং অন্যদের কাছে অসম্ভব উচ্চ মানদণ্ড নির্ধারণ করে এবং ত্রুটি বা ব্যর্থতার প্রতি অত্যন্ত অসহিষ্ণু হয়।

পূর্ণতাবাদের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য:

  • নিখুঁততার প্রতি অত্যধিক মনোযোগ: পূর্ণতাবাদীরা প্রায়শই নিজেদের এবং অন্যদের কাছে অসম্ভব উচ্চ মানদণ্ড নির্ধারণ করে। তারা ছোটখাটো ত্রুটিতেও মনোযোগ দিতে পারে এবং সেগুলোকে ব্যর্থতার লক্ষণ হিসেবে দেখতে পারে।
  • সমালোচনার প্রতি সংবেদনশীলতা: পূর্ণতাবাদীরা সমালোচনার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হতে পারে, এমনকি যদি তা রचनात्मक হয়। তারা প্রত্যাখ্যানের ভয় পেতে পারে এবং ভুল করার ঝুঁকি এড়াতে পারে।
  • কঠোর আত্ম-বিচার: পূর্ণতাবাদীরা প্রায়শই নিজেদের কঠোরভাবে সমালোচনা করে এবং তাদের ভুলের জন্য নিজেদেরকে দোষ দেয়। এটি নেতিবাচক আবেগ এবং কম আত্মসম্মানের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
  • ব্যর্থতার ভয়: পূর্ণতাবাদীরা ব্যর্থতার প্রতি অত্যন্ত ভীতু হতে পারে। এটি তাদের ঝুঁকি নেওয়া এড়াতে এবং নতুন জিনিস চেষ্টা করতে বাধা দিতে পারে।
  • পরিপূর্ণতাবাদ: পূর্ণতাবাদীরা প্রায়শই “সবকিছু ঠিক হওয়ার” জন্য অপেক্ষা করে থাকে। এটি তাদের সিদ্ধান্ত নিতে এবং এগিয়ে যেতে বিলম্ব করতে পারে।

পূর্ণতাবাদ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার সাথে যুক্ত হতে পারে, যেমন:

  • উদ্বেগ
  • বিষণ্ণতা
  • খাওয়ার ব্যাধি
  • আত্ম-ক্ষতি

যদি আপনি মনে করেন যে আপনি একজন পূর্ণতাবাদী হতে পারেন, তাহলে একজন মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারের সাহায্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তারা আপনাকে আপনার পূর্ণতাবাদের নেতিবাচক প্রভাবগুলি পরিচালনা করতে এবং আরও স্বাস্থ্যকর মোকাবেলা মেকানিজম বিকাশ করতে সহায়তা করতে পারে।

পূর্ণতাবাদের কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে:

  • উচ্চ মান: পূর্ণতাবাদীরা প্রায়শই উচ্চ মানের কাজ করে থাকে কারণ তারা ত্রুটি এড়াতে চায়।
  • প্রেরণা: পূর্ণতাবাদ তাদের লক্ষ্য অর্জনে তাদেরকে অনুপ্রাণিত করতে পারে।
  • মনোযোগ: পূর্ণতাবাদীরা বিস্তারাদি নিয়ে মনোযোগ দিতে পারে এবং জটিল বিষয়গুলি বুঝতে পারে।

Categorized in: