দর্শন শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ “জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা”। এটি এসেছে প্রাচীন গ্রিক ভাষা থেকে।

দুটি শব্দের সমন্বয়ে দর্শন শব্দের উৎপত্তি:

  • ফিলোস (φίλος): যার অর্থ “বন্ধু” বা “ভালোবাসার পাত্র”।
  • সোফিয়া (σοφία): যার অর্থ “প্রজ্ঞা”।

অর্থাৎ, দর্শন শব্দের পূর্ণ অর্থ দাঁড়ায় “প্রজ্ঞার প্রতি ভালোবাসা”।

আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে:

  • দার্শনিক: যিনি জ্ঞানকে ভালোবাসেন এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য চেষ্টা করেন।
  • দর্শন: জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া; বাস্তবতা, জ্ঞান, মূল্যবোধ, যুক্তি, মন এবং ভাষা সম্পর্কে মৌলিক প্রশ্নের অনুসন্ধান।

দর্শনের উদ্দেশ্য:

  • বাস্তবতার প্রকৃতি বোঝা: বাস্তবতা কি? বাস্তব জগতে কী কী বিদ্যমান?
  • জ্ঞানের প্রকৃতি বোঝা: আমরা কীভাবে জ্ঞান অর্জন করি? জ্ঞানের উৎস কী?
  • মূল্যবোধের প্রকৃতি বোঝা: ন্যায়, সততা, সুন্দরের ধারণা কী?
  • যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনার বিকাশ: যুক্তিসঙ্গতভাবে চিন্তা করার দক্ষতা বৃদ্ধি।
  • ভালো জীবনযাপনের নীতি নির্ধারণ: আমাদের কীভাবে জীবনযাপন করা উচিত?

দর্শনের বিভিন্ন শাখা:

  • অধিবিদ্যা: বাস্তবতা, অস্তিত্ব, সত্তা সম্পর্কে অধ্যয়ন।
  • জ্ঞানতত্ত্ব: জ্ঞান, বিশ্বাস, ধারণা সম্পর্কে অধ্যয়ন।
  • নীতিশাস্ত্র: ন্যায়, সততা, নীতিবোধ সম্পর্কে অধ্যয়ন।
  • যুক্তিবিদ্যা: যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনার নীতি সম্পর্কে অধ্যয়ন।
  • নন্দনতত্ত্ব: সৌন্দর্য, শিল্প, সাহিত্য সম্পর্কে অধ্যয়ন।

দর্শনের গুরুত্ব:

  • ব্যক্তিগত জীবনে: জীবন সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট করে, নীতিবোধ ও যুক্তিসঙ্গত চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটায়।
  • সামাজিক জীবনে: সামাজিক নীতি ও মূল্যবোধের ভিত্তি স্থাপন করে।
  • বৈজ্ঞানিক চিন্তায়: নতুন ধারণার বিকাশে সহায়তা করে।

উপসংহার:

দর্শন জ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা যা আমাদের জীবনকে আরও সমৃদ্ধ ও অর্থবহ করে তোলে।

Categorized in: