বাংলাদেশ সম্পর্কিত

উত্তরা গণভবন কোথায় অবস্থিত? এক ঝলকে ইতিহাস ও ঐতিহ্য

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো উত্তরা গণভবন। দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলী ও ইতিহাস বিজড়িত এই ভবনটি ভ্রমণপিপাসু এবং ইতিহাসপ্রেমী উভয়ের কাছেই সমান আকর্ষণীয়।

অনেকেই জানতে চান, উত্তরা গণভবন কোথায় অবস্থিত এবং এর পেছনের গল্পটাই বা কী। এই ব্লগ পোস্টে আমরা উত্তরা গণভবনের অবস্থান, ইতিহাস এবং ভ্রমণের খুঁটিনাটি তুলে ধরব।

উত্তরা গণভবন: অবস্থান ও পরিচিতি

উত্তরা গণভবন নাটোর জেলা সদরের দিঘাপতিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত। নাটোর শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার। যা একসময় দিঘাপতিয়া রাজবাড়ি নামে পরিচিত ছিল, সেটিই আজকের উত্তরা গণভবন। এটি উত্তরবঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ঐতিহাসিক এই রাজবাড়িটি প্রায় ৪৩ একর জমির উপর বিস্তৃত। এর চারপাশে রয়েছে পরিখা ও সুউচ্চ প্রাচীর। ভেতরে ছোট-বড় মোট ১২টি ভবন, মনোরম বাগান, বিশাল আকারের পুকুর এবং দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষরাজি রয়েছে যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

উত্তরা গণভবনের সমৃদ্ধ ইতিহাস

উত্তরা গণভবনের ইতিহাস বেশ পুরনো। দিঘাপতিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা দয়ারাম রায় ছিলেন নাটোর রাজবংশের দেওয়ান। তার কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট হয়ে নাটোরের রাণী ভবানী তাকে দিঘাপতিয়া পরগনা উপহার দেন। ১৭৩৪ সালে দয়ারাম রায় এই রাজবাড়ির গোড়াপত্তন করেন।

পরবর্তীতে ১৮৯৭ সালের এক প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে রাজবাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাজা প্রমদানাথ রায় বিদেশি স্থপতি ও প্রকৌশলীদের সহায়তায় এটিকে পুনঃনির্মাণ করেন। দেশ বিভাগের পর ১৯৫২ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলে দিঘাপতিয়ার শেষ রাজা প্রতিভানাথ রায় সপরিবারে ভারতে চলে যান।

স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিঘাপতিয়া রাজবাড়িকে ‘উত্তরা গণভবন’ হিসেবে ঘোষণা দেন এবং এখানে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সেই থেকেই এটি উত্তরা গণভবন নামে পরিচিতি লাভ করে।

কী কী দেখবেন উত্তরা গণভবনে?

  • মূল প্রাসাদ: চমৎকার স্থাপত্যের এই ভবনে রয়েছে দরবার হল, হলরুম, রাজার শয়নকক্ষ ও ভোজনালয়।
  • কুমার প্যালেস: মূল ভবনের পাশেই রয়েছে কুমার প্যালেস নামে পরিচিত আরেকটি সুন্দর ভবন।
  • ইতালিয়ান গার্ডেন: শ্বেতপাথরের নজরকাড়া সব মূর্তি দিয়ে সাজানো এই বাগানটি গণভবনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
  • সংগ্রহশালা: রাজবাড়ির পুরনো ট্রেজারি ভবনে একটি সংগ্রহশালা স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে রাজপরিবারের ব্যবহৃত নানা জিনিসপত্র স্থান পেয়েছে।
  • বিশাল প্রবেশদ্বার ও ঘণ্টা: গণভবনের প্রবেশমুখেই রয়েছে একটি বিশাল প্রবেশদ্বার, যার উপরে একটি বড় ঘড়ি রয়েছে। কথিত আছে, এর ঘণ্টার শব্দ বহু দূর থেকে শোনা যেত।

যাতায়াত ও ভ্রমণ তথ্য

কীভাবে যাবেন: ঢাকা থেকে বাস বা ট্রেনে সরাসরি নাটোর যাওয়া যায়। নাটোর শহর বা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজি বা অটোরিকশা যোগে সহজেই উত্তরা গণভবনে পৌঁছানো সম্ভব।

প্রবেশ মূল্য ও সময়সূচী: উত্তরা গণভবন দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে (সাধারণত রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে)। বাংলাদেশি দর্শনার্থীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রবেশ মূল্য রয়েছে।

FacebookX