বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সাহস, দৃঢ়তা আর আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে সংশপ্তক ভাস্কর্য। এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে অবস্থিত, আর এর ভঙ্গিমা মুক্তিযোদ্ধাদের শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার অদম্য মানসিকতাকে প্রকাশ করে।
সংশপ্তক নামের অর্থ
“সংশপ্তক” শব্দটি এসেছে সংস্কৃত থেকে। এর মানে হলো—“শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যোদ্ধা, যারা পিছু হটে না।” মুক্তিযোদ্ধাদের সেই অদম্য স্পৃহাকে এই ভাস্কর্যে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
নির্মাণ ইতিহাস
- নির্মাতা: খ্যাতিমান ভাস্কর মৃণাল হক।
- উদ্দেশ্য: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার মূল্য এবং জাতির আত্মত্যাগকে স্থায়ী রূপে উপস্থাপন করা।
- অবস্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ চত্বর।
শিল্পকলা ও নকশা
- ভাস্কর্যটিতে যোদ্ধাদের দৃঢ় ভঙ্গি দেখা যায়।
- হাতে অস্ত্র, চোখে অনমনীয় দৃষ্টি, এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ভঙ্গি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতীকী উপস্থাপন।
- ব্যবহৃত উপাদান: কংক্রিট ও ব্রোঞ্জ।
সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব
- এটি কেবল একটি ভাস্কর্য নয়—এটি মুক্তিযুদ্ধের এক জীবন্ত প্রতীক।
- জাতীয় দিবসে এখানে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
- নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার জন্যও এর অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ভ্রমণ তথ্য
- অবস্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চারুকলা অনুষদ, শাহবাগ, ঢাকা।
- খোলা সময়: এটি সর্বসাধারণের জন্য সবসময় উন্মুক্ত।
- প্রবেশ ফি: নেই।
- কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান: জাতীয় জাদুঘর, টিএসসি, কার্জন হল, শাহবাগ বইয়ের দোকান।
FAQs
Q1: সংশপ্তক ভাস্কর্য কোথায় অবস্থিত?
A1: এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে, শাহবাগে অবস্থিত।
Q2: “সংশপ্তক” শব্দের অর্থ কী?
A2: সংশপ্তক মানে—যোদ্ধারা যারা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করে, পিছু হটে না।
Q3: ভাস্কর্যটি কে নির্মাণ করেছেন?
A3: বিখ্যাত ভাস্কর মৃণাল হক।
Q4: এখানে কি প্রবেশ ফি আছে?
A4: না, এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।
Q5: কোন দিবসে এখানে বিশেষ কর্মসূচি হয়?
A5: ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে এখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।